শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স-ফ্রি) বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা আবাসন প্লট নয়, বরং দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মতো সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি তার আগের দিনের বক্তব্যের বিভ্রান্তি দূর করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, “আমরা কোনো ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা প্লট সুবিধা নেব না। এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রত্যেক সদস্য ইতিমধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। আমার প্রস্তাব ছিল ভিন্ন।” তিনি যুক্তি দেন যে, মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে দাপ্তরিক কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদেরও সেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি দেওয়া যায় কি না।
বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র কিংবা এসিল্যান্ডদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা পদাধিকার বলে রাষ্ট্রীয় গাড়ি পেয়ে থাকেন। সংসদ সদস্যরাও যদি কেবল তাদের মেয়াদে ব্যবহারের জন্য সরকারি মালিকানাধীন একটি করে গাড়ি পান, তবে তা সরকারের জন্য সাশ্রয়ী হবে। এটি ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়, বরং সরকারি কার্য পরিচালনার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, বর্তমানে সংসদ সদস্যদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৭০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়, অথচ অনেক সংসদ সদস্যের নিজস্ব গাড়িই নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাড়ি না থাকলে এই রক্ষণাবেক্ষণ খরচের যৌক্তিকতা কোথায়? যদি সরকার গাড়ি প্রদান করে, তবে সেই বরাদ্দকৃত টাকা দিয়েই গাড়ির যাবতীয় খরচ নির্বাহ করা সম্ভব এবং এর জন্য অতিরিক্ত কোনো বাজেটের প্রয়োজন হবে না।
কুমিল্লার এই সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গতকাল তার দেওয়া বক্তব্যটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন যে, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির যে সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল, বর্তমান সংসদের সদস্যরা তার ঘোর বিরোধী। তারা ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তার এই প্রস্তাবনা মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধার একটি যৌক্তিক সামঞ্জস্য তৈরির চেষ্টা।
সংসদ অধিবেশনে তার এই বক্তব্য উপস্থিত অন্য সদস্যদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহ মনে করেন, সংসদ সদস্যদের পদমর্যাদা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট মানের সরকারি গাড়ি সার্বক্ষণিক ব্যবহারের সুযোগ থাকলে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।
উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরু থেকেই সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ত্যাগের বিষয়টি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহর আজকের এই বক্তব্য সেই ত্যাগের মহিমাকে অক্ষুণ্ণ রেখে কেবল পেশাগত প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এলো। এখন দেখার বিষয়, সংসদ সচিবালয় বা সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই প্রস্তাবের বিপরীতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

