দেশজুড়ে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছাড়াই প্রথম ধাপের এই পরীক্ষা শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রথম দিনের পরীক্ষা নিয়ে আমরা অত্যন্ত সতর্ক ছিলাম। কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং প্রশ্ন ফাঁসের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরনের কোনো শঙ্কা বা আলোচনাও বর্তমানে নেই। তিনি এই সাফল্যের কৃতিত্ব গণমাধ্যমকেও দিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই জনসচেতনতা তৈরি করেছেন, যার ফলে জাতি আশ্বস্ত হতে পেরেছে যে এবার একটি সুন্দর ও নকলমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবারের পরীক্ষার্থীদের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) বা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যে আনন্দ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে, তা সত্যিই অভাবনীয়। কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তিনি কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন এবং বাকি পরীক্ষাগুলোতেও এই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সময়ানুবর্তিতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের বিশেষ অনুরোধে এবার কেন্দ্রগুলো সকাল আটটা থেকেই উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পেরেছে। তবে যানজট বা অন্য কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থীর দেরি হয়ে গেলে, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “যদি কোনো বাচ্চা ট্রাফিকের কারণে দেরি করে ফেলে, তবে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং তার অস্থিরতা কমানো আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের দায়িত্ব। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেরি করে আসা শিক্ষার্থীদের ভয় না দেখিয়ে বরং তাদের শান্ত করে পরীক্ষার আসনে বসানোই প্রশাসনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত।
বাকি পরীক্ষাগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এর পাশাপাশি যদি কোথাও কোনো অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়, তবে তা দ্রুত তাকে বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কঠোরতার ইঙ্গিত ছিল, অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের প্রতি ছিল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। প্রশ্ন ফাঁসের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতি উপহার দেওয়াই এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম দিনের সফল সমাপ্তি সেই লক্ষ্য অর্জনে এক বড় ধাপ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

