জাতীয় জীবনে অনন্য গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ দিক ছিল প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া। বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে তিনি সচিবালয় থেকে পায়ে হেঁটে পার্শ্ববর্তী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও তিনি একইভাবে হেঁটে গিয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে।
এ বছর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষাসহ দেশ গঠনে আজীবন লড়াই এবং নারী শিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। তার এই প্রাপ্তি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক আবেগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম এবং সাহিত্যে কালজয়ী অবদানের জন্য আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর)।
সংস্কৃতি অঙ্গনে বিনোদন ও সমাজসচেতনামূলক কাজ করে যাওয়া জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত এবং প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর) এ বছর এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পেয়েছেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনুর নামও উজ্জ্বল হয়ে আছে এবারের তালিকায়।
সমাজসেবা ও জনহিতকর কাজে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক এবং বিমান দুর্ঘটনায় নিহত অকুতোভয় শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীকে (মরণোত্তর) এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর) এবং গবেষণায় অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ আরও বেশ কয়েকজন গুণীজনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকেও তাদের অসামান্য সেবার জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
পুরস্কার প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই গুণীজনদের সম্মান জানানো মানেই দেশকে সম্মান জানানো। তাদের দেখানো পথ ধরে আগামী প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সচিবালয়ে ফিরে যান এবং সন্ধ্যায় নির্ধারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। প্রতি বছর ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও এবার বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে এই গুণীজনদের সম্মানিত করল সরকার। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে দেশের জাতীয় সংগীতের মূর্ছনা এক অন্যরকম দেশপ্রেমের আবহ তৈরি করে।

