বর্তমান সরকার জনগণের সাথে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি অন্যায় ও জুলুমের প্রতিবাদে তারা কখনোই সহিংসতার পথ বেছে নেবেন না; বরং নিয়মতান্ত্রিক ও কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের লুণ্ঠিত অধিকার ফিরিয়ে আনবেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় নেতা মো. সিরাজুল ইসলামের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সিরাজুল ইসলাম (৭৮) শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। গত বৃহস্পতিবার শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের দিন প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি বর্তমানে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার কেবল তার দায়িত্ব পালনেই ব্যর্থ হয়নি, বরং জনগণকে দেওয়া প্রতিটি ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। তারা জনগণের ওপর জুলুম করেছে এবং সাধারণ মানুষকে অপমান করেছে। তবে আমরা সেই অপমানের প্রতিশোধ হাতাহাতি বা মারামারি করে নেব না; আমাদের লড়াই হবে অধিকার আদায়ের কঠোর আন্দোলন।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের এই লড়াই থেকে এক চুলও নড়া হবে না। প্রয়োজনে জাতির স্বার্থে আরও বড় ত্যাগ স্বীকার করতে জামায়াত প্রস্তুত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপসের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
রাজনীতিতে পেশিশক্তির ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে প্রকৃতপক্ষে জনগণের সেবা করা সম্ভব নয়। আমরা মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হয়ে সংসদে যেতে চাই। যদি সাধারণ মানুষের জীবনই নিরাপদ না থাকে, তবে সেই জনপ্রতিনিধিত্বের কোনো মূল্য নেই।”
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ভবিষ্যতে সব ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা চাই দেশে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই হোক, অস্ত্রের লড়াই নয়।” গত ৯ এপ্রিল শেরপুর ও বগুড়ার উপ-নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসনের ঘটনাকে অত্যন্ত ‘বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপচে পড়া রোগীর ভিড় ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। শয্যাসংখ্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেওয়ার দৃশ্যকে তিনি ‘জনগণের বঞ্চনার প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এই বিষয়ে সংসদে জোরালো আওয়াজ তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
সংসদ থেকে ওয়াকআউটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “এটি কোনো দলীয় জেদ নয়; বরং জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এটি আমাদের প্রতিবাদ। আমরা সংসদে পুলিশ সদস্যদের ন্যায্য বিচারসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।”
এর আগে হাসপাতালে পৌঁছালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান, জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

