দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়েছেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ দল।
সফুরা বেগম রুমী শুধু সাবেক সংসদ সদস্যই নন, তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে তার ব্যাপক প্রভাব ছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সফুরা বেগমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে লালমনিরহাটে চারটি এবং রাজধানী ঢাকায় একটিসহ মোট পাঁচটি মামলা ঝুলছে। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার পর তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমনিরহাট থেকে আসা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই তাকে হেফাজতে নিতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর রাতেই তাকে কড়া পাহারায় লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সফুরা বেগম একজন পরিচিত মুখ হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পটপরিবর্তনের পর তিনি জনসম্মুখ থেকে দূরে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, লালমনিরহাটে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে একটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজই (বৃহস্পতিবার) আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সাথে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
লালমনিরহাটের স্থানীয় রাজনীতিতে এই গ্রেপ্তার নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা যখন দেশের বাইরে বা দেশের ভেতরে আত্মগোপনে আছেন, তখন সফুরা বেগমের মতো একজন হাই-প্রফাইল নেত্রীর গ্রেপ্তার হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট হয়রানি নয় বরং বিদ্যমান মামলাগুলোর তদন্তের স্বার্থেই এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সফল। আজ বিকেলে তাকে আদালতে তোলা হলে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তারের যে ধারা চলছে, সফুরা বেগমের গ্রেপ্তার সেই তালিকারই একটি নতুন সংযোজন। আদালত চত্বরে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য লালমনিরহাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

