বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে মাহেন্দ্রক্ষণ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বুধবার (২৫ মার্চ) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের হৃদয়ে আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সুপ্ত চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। এই ঐতিহাসিক দিনে তিনি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তিতে দেওয়া এই বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সেইসব অকুতোভয় সূর্যসন্তানদের, যাদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে লাল-সবুজের এই স্বাধীন ভূখণ্ড।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবের দিন। এই দিনে আমি বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিতা মা-বোনদের প্রতি, যাদের আত্মনিবেদন আমাদের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হয়ে আছে।” তিনি সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
স্বাধীনতার মূল দর্শনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান লক্ষ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে মানুষের অধিকার থাকবে সুরক্ষিত এবং রাষ্ট্র হবে সমৃদ্ধ। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আমাদের আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আর সেই লক্ষ্য ছোঁয়ার একমাত্র উপায় হলো ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য।
মাতৃভূমির উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং খাঁটি দেশপ্রেমকে হৃদয়ে ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।” তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে দেশের কল্যাণে সবাই একতাবদ্ধ না হলে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
বাণীর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এই তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করি। বৈষম্যমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।” তিনি দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সকল রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।

