অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। বাংলাদেশের আকাশে মুচকি হেসেছে শাওয়াল মাসের বাঁকা চাঁদ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর কাল শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশজুড়ে বইছে আনন্দের হিল্লোল।
সন্ধ্যা নামার পরপরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর আসতে শুরু করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে ধর্মমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেডিও-টেলিভিশনে বেজে ওঠে সেই চিরচেনা সুর— “ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ”।
এবারের ঈদ এক ভিন্ন আবহে পালিত হতে যাচ্ছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আর অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও, চাঁদের আগমন সেই মেঘ যেন মুহূর্তেই উড়িয়ে দিয়েছে। পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঈদগাহ ময়দানগুলো সাজানো হয়েছে নতুন সাজে, আর গৃহিণীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ঈদের বিশেষ রান্নার আয়োজনে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বরাবরের মতো ঈদের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশের প্রধান ঈদগাহ ময়দানগুলোতেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বড় কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, যা ঈদ উদযাপনে বাড়তি আনন্দ দেবে।
রমজানের আত্মশুদ্ধি শেষে এই ঈদ বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি আর সৌহার্দ্য—এমনই প্রত্যাশা সবার। ধনি-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে, সেই প্রার্থনাই ধ্বনিত হচ্ছে প্রতিটি ঘরে। অন্ধকার আকাশে শাওয়ালের সেই সরু রুপালি রেখাটি যেন কেবল একটি মাসের সমাপ্তি নয়, বরং এক নতুন আশার বার্তাবাহক।
দেশের প্রতিটি প্রান্তের পাঠকদের জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা— ঈদ মোবারক!

