আসন্ন পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির মাঝে ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্বাহী আদেশের কথা জানানো হয়। এর ফলে উৎসবের মৌসুমে সরকারি ও বেসরকারি কর্মজীবীদের জন্য এক টানা দীর্ঘ অবসরের সুযোগ তৈরি হলো।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কার্যপ্রণালী বিধিমালা ১৯৯৬-এর ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই ছুটি বরাদ্দ করা হয়েছে। এই আদেশের ফলে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস ওই দিন বন্ধ থাকবে। মূলত দুটি বড় ধর্মীয় উৎসবের ছুটির মাঝে বুধবার কর্মদিবসটি পড়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও উৎসব উদযাপনের সুবিধার্থে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে জনজীবনের স্বাভাবিক গতি সচল রাখতে জরুরি সেবাগুলোকে এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ফায়ার সার্ভিসের মতো অতিপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো যথারীতি চালু থাকবে। এছাড়া বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রেখে হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলোও এই আদেশের বাইরে থাকবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংকগুলো খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুতই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। অন্যদিকে, আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট পৃথক নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই একদিনের বাড়তি ছুটির ফলে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। সাধারণত ঈদের আগে যাতায়াতের প্রচণ্ড ভিড় থাকে, যা এই বাড়তি ছুটির কারণে কিছুটা বিভক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

