রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আজ শনিবারও ছিল কর্মমুখর। সাধারণত সরকারি ছুটির দিনে আমলাতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড স্থবির থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টানা তৃতীয় শনিবার অফিস করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর সংস্কারে গতি আনতেই তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতা বলে জানা গেছে।
দুপুর ১২টার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়া প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সকাল থেকেই নথিপত্র নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন।
কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরপরই প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BJRI) মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তারের সঙ্গে। দেশের সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের হারানো ঐতিহ্য ফেরানো এবং পাটের বহুমুখী পণ্য উৎপাদন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের চাহিদা কাজে লাগিয়ে কীভাবে রপ্তানি আয় বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।
তবে বিকেলের দিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দেশের বর্তমান অস্থির জ্বালানি পরিস্থিতি। দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। বর্তমানে সারা দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে যে গুঞ্জন ও গ্রাহক পর্যায়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। এছাড়া এই খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে কীভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপের বোঝা লাঘব করা যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সরকারি কাজ গুছিয়ে নেন। তবে তাঁর আজকের ব্যস্ততা এখানেই শেষ হচ্ছে না। জানা গেছে, দেশের ওলামা-মাশায়েখ এবং এতিম শিশুদের সম্মানে আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন তিনি। কার্যালয়ের কাজ শেষ করে তিনি সরাসরি যমুনার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন এবং দেশের সার্বিক মঙ্গল কামনায় দোয়া করবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যালয়মুখী হওয়া প্রশাসনের ভেতরে একটি বার্তা দিচ্ছে—আর তা হলো ‘কাজে কোনো ঢিলেমি নয়’। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

