সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার যাবতীয় ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) মঙ্গলবার এই কঠোর নির্দেশনা জারি করে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিএফআইইউর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার বিশেষ ধারা অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে খোলা সমস্ত অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি (KYC), হিসাব খোলার ফরম এবং শুরু থেকে আজ পর্যন্ত হওয়া সমস্ত লেনদেনের বিবরণী জমা দিতে হবে। সরকারের পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো শীর্ষস্থানীয় সাবেক সমন্বয়ক তথা উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এমন বড় আকারের আর্থিক অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। সম্প্রতি তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খোলস ছেড়ে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র মুখপাত্র হিসেবে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।
তবে এই হিসাব তলবের নেপথ্যে কেবল রুটিন মাফিক প্রক্রিয়া নয়, বরং বড় ধরণের অভিযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ইতিপূর্বেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদক বর্তমানে সেই অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করছে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএফআইইউর এই তৎপরতা সাধারণত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনিয়ম বা সন্দেহজনক লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরেই শুরু হয়। বিশেষ করে মানি লন্ডারিং আইনের প্রয়োগের বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের বাইরে অর্থ পাচার বা অস্বাভাবিক কোনো লেনদেনের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে থাকতে পারে।
বিএফআইইউর নির্দেশনায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যাংক তথ্য গোপনের চেষ্টা করলে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি পাঠাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, আবার কারো মতে এটি রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তবে আসিফ মাহমুদের মতো একজন তরুণ নেতার বিরুদ্ধে এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

