রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। ‘জুলাই বিপ্লব’ বা জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানকে অসম্মান করার অভিযোগ এনে তাকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারণ এবং দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবিতে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার এই নোটিশটি প্রেরণ করেন। নোটিশটি সরাসরি সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং আইন সচিবের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির বর্তমান অবস্থানকে তার সাংবিধানিক শপথের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আইনি নোটিশের মূল বক্তব্যে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে জুলাই মাসের গণ-আন্দোলনকে অবমাননা করেছেন, যা প্রকারান্তরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও সংগ্রামীদের প্রতি অসম্মান। আইনজীবীর মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তার পদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন এবং সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন। তাই তাকে আর এই পদে বহাল রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়।
নোটিশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে খুব শীঘ্রই। ব্যারিস্টার শাহরিয়ারের দাবি, সংসদ সচিবালয় যেন বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে অধিবেশন উদ্বোধন না করিয়ে, সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
নোটিশ দাতা ২৪ ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও নতুন নিয়োগের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তিনি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ সোচ্চার রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র নিয়ে তার পরস্পরবিরোধী মন্তব্য ছাত্র-জনতার ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে অপসারণের জন্য সরাসরি নোটিশ পাঠানোর ঘটনাটি এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করল।
সংসদ সচিবালয় বা আইন মন্ত্রণালয় এখন এই নোটিশের জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আইনি মহল। কারণ, রাষ্ট্রপতির মতো একটি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে কাউকে অপসারণ করার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তবে ২৪ ঘণ্টার এই আল্টিমেটাম রাজপথের রাজনীতির পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণেও উত্তাপ ছড়িয়েছে।

