মাতৃভাষা দিবসের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ডের হাতে ‘একুশে পদক-২০২৬’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমাণী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হস্তান্তর করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে এক নজিরবিহীন ও ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে নিয়মিত বৈঠক শেষ করে কোনো প্রটোকল বা বিশেষ গাড়িবহর ছাড়াই পায়ে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান তিনি। সাধারণ মানুষের অবাক চাহনি আর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও তার এই সাধারণ পথচলা উপস্থিত জনতাকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
২০২৬ সালের এই সম্মাননা তালিকায় স্থান পেয়েছেন শিল্প-সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও সাংবাদিকতা জগতের দিকপালরা। চলচ্চিত্রে কালজয়ী অবদানের জন্য পদক গ্রহণ করেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয় প্রয়াত গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুকে, যা পুরো মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। এছাড়াও আধুনিক সংগীতের প্রসারে বিশেষ ভূমিকার জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’ দলীয়ভাবে এই পদক লাভ করে।
প্রধানমন্ত্রী একে একে গুণীজনদের হাতে মেডেল ও সম্মাননা পত্র তুলে দেন। চারুকলায় অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেরিনা তাবাশ্যুম এবং নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পান। সাংবাদিকতায় সাহসিকতা ও দীর্ঘ পথচলার জন্য একুশে পদক পেয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়। পদকপ্রাপ্তরা জাতির মেধা ও মননের বিকাশে যেভাবে কাজ করে চলেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয় অনুষ্ঠানে।
প্রধানমন্ত্রী তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ধারক-বাহকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুণীজনদের সম্মাননা জানানো কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে শিল্প ও সাহিত্যের চর্চাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে এবং দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এই গুণীজনদের উপস্থিতিতে ওসমাণী স্মৃতি মিলনায়তন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রতি বছর অমর একুশে উপলক্ষে রাষ্ট্র এই সম্মাননা প্রদান করলেও, এ বছরের তালিকায় আইয়ুব বাচ্চু বা ওয়ারফেজের মতো আধুনিক ও রক সংগীতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি সংস্কৃতিমনা তরুণ সমাজের মাঝে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।

