বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বর্তমান প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মো. আলী হোসেন ফকিরের এই নিয়োগকে বাহিনীর পেশাদারিত্ব পুনরুদ্ধারের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের একজন অত্যন্ত দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তবে তার দীর্ঘ কর্মজীবন ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নানামুখী চড়াই-উতরাইয়ে পূর্ণ।
বাগেরহাটের সন্তান আলী হোসেন ফকিরের কর্মজীবনে প্রথম আঘাত আসে ১৯৯৭ সালে, আওয়ামী লীগের প্রথম শাসনামলে। সে সময় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন। ২০০৮ সালে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা তার পিছু ছাড়েনি। জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাকে রাজশাহী ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়। এরপর ২০২২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে পুনরায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি পুনরায় আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরিতে ফিরে আসেন এবং ধাপে ধাপে পদোন্নতি পান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক বঞ্চনার শিকার হওয়া এই কর্মকর্তার নিয়োগ পুলিশের চেইন অফ কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। পুলিশ প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।
নবনিযুক্ত এই আইজিপিকে ঘিরে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও আশার সৃষ্টি হয়েছে। অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তা তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছে সরকার ও সাধারণ মানুষ।

