দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এলো বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন এক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এতে ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম কমছে ১৫ টাকা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিইআরসির পক্ষ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই মূল্য তালিকা ঘোষণা করা হয়। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই নতুন দাম। মূলত উৎপাদন পর্যায়ে মূসক (ভ্যাট) প্রত্যাহার করে তা আমদানি পর্যায়ে আরোপ করার কারণেই ভোক্তা পর্যায়ে এই মূল্য হ্রাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১৩৪১ টাকা। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ১৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম করা হয়েছিল ১৩৫৬ টাকা। দ্বিতীয় দফার এই ১৫ টাকা হ্রাসের ফলে মাসের শুরুর বড় ধাক্কাটি কিছুটা হলেও প্রশমিত হলো।
শুধু বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসই নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও সামান্য কমেছে। মাসের শুরুতে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা করা হয়েছিল। নতুন সমন্বয়ে প্রতি লিটারে ২৮ পয়সা কমিয়ে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ টাকা ৮৬ পয়সা।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের কাঁচামালের দামের ওঠা-নামা এবং সরকারের শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই নিয়মিত সমন্বয় করা হয়। এনবিআরের এই নতুন ভ্যাট নীতি প্রয়োগের ফলে আমদানিকারক ও ডিলার পর্যায়ে খরচের কিছুটা তারতম্য হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তবে মাঠ পর্যায়ে এই নতুন দাম কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে জনমনে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। অনেক এলাকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। এ বিষয়ে বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখলে সংশ্লিষ্ট ডিলার বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলতি মাসে একই পণ্যের দাম দুবার নির্ধারণের ঘটনা কিছুটা বিরল হলেও রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ সিদ্ধান্তের কারণে এটি করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এখন দেখার বিষয়, ডিলার পর্যায় থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানগুলোতে এই ১৫ টাকার সুবিধা সাধারণ মানুষ কত দ্রুত পায়।

