দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, জেল-জুলুম আর ত্যাগের পর রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন দায়িত্বে অভিষিক্ত হলেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নবনিযুক্ত এই মন্ত্রী বলেন, এই দায়িত্ব কেবল একটি পদ নয়, বরং জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতিফলন। গত কয়েক বছরের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিজের আগামীর পরিকল্পনার কথা জানান।
ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন দায়িত্ব
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “আমাদের এই পথচলা সহজ ছিল না। দীর্ঘ অপেক্ষা, সীমাহীন অত্যাচার, গুম এবং অমানবিক নির্যাতনের পাহাড় ডিঙিয়ে আমরা আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। দেশের মানুষ আমাদের ওপর যে বিশ্বাস রেখেছে, তার মর্যাদা রক্ষা করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মহান আল্লাহর কাছে এবং বাংলাদেশের জনগণের কাছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা সততার সঙ্গে এই গুরুভার বহন করতে পারি।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ সরকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভাকে একটি জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় আমরা একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করব। আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য হলো, কোনো রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ছাড়াই দেশের সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা।”
এ্যানি আরও উল্লেখ করেন যে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের কৃষি ও ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নদী ভাঙন রোধ এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।
দিনভর ব্যস্ততা ও প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক
নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য আজকের দিনটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখান থেকে ফিরে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে কাজে যোগ দেন তারা।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকেই সরকারের আগামী ১০০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কাজের একটি খসড়া তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির এই বিনয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আশা করছে, প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই নতুন নেতৃত্ব দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

