নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই তিনি জানিয়েছেন, কৃষকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘কৃষক কার্ড’ বণ্টন প্রক্রিয়ার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে নিজের দফতরে প্রথম অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কর্মপরিকল্পনার কথা জানান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা সরাসরি পৌঁছে দিতে এই কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
অগ্রাধিকার তালিকায় ‘কৃষক কার্ড’
সচিবালয়ে পৌঁছানোর পর প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, “আজকে আমার প্রথম কার্যদিবস। আমি যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, সেগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করব। তবে আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ‘কৃষক কার্ড’। এটি কীভাবে দ্রুত কৃষকদের হাতে পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করছি।”
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও উল্লেখ করেন, তৃণমূল পর্যায়ের প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সুবিধা পান, সেটি নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কৃষিখাতে স্বচ্ছতা আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষক কার্ডের বহুমুখী সুবিধা
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র হিসেবে নয়, বরং কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি মূল্যে সার, উন্নত জাতের বীজ ও মানসম্মত কীটনাশক সংগ্রহ করতে পারবেন।
এছাড়া, এই কার্ডের আওতায় কৃষকরা প্রথমবারের মতো ‘কৃষিবিমা’ করার সুযোগ পাবেন, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি জামানতবিহীন কৃষিঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াও এই কার্ডের মাধ্যমে সহজতর করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সংস্কারের পথে কৃষি ও খাদ্য খাত
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি একে অপরের পরিপূরক। তাই তিনি কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও সমন্বিত পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্ড ব্যবস্থার ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক কার্ডের সফল বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।

