সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর কার্যকারিতা এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন, যেখানে এই সনদকে অবৈধ এবং সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
রিট আবেদনটিতে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংবিধান বনাম নতুন সনদ: আইনি বিতর্ক
আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের মতে, জুলাই জাতীয় সনদের বেশ কিছু ধারা বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেন, দেশের সর্বোচ্চ আইনকে পাশ কাটিয়ে বা খর্ব করে কোনো নতুন সনদ কার্যকর করা আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
এই রিট এমন এক সময়ে এলো যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই সনদকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও, এর আইনি ভিত্তি এখন উচ্চ আদালতের কাঠগড়ায়।
গণভোটের ফল বাতিলের দাবি
সনদের পাশাপাশি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত গণভোটের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ পৃথক একটি রিট দায়ের করেন। ওই আবেদনে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফলাফল পুরোপুরি বাতিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এই রিটটির শুনানি আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে হওয়ার কথা রয়েছে। রিটকারী পক্ষ মনে করছে, গণভোটের প্রক্রিয়া এবং এর পরবর্তী ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে আইনি ত্রুটি রয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।
ভোটের পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশজুড়ে ভোটের হার ছিল ৬০.২৬ শতাংশ।
মোট ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোটার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখের কিছু বেশি। তবে এই বিপুল জনরায়ের পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও, আইনি জটিলতা এখন পুরো বিষয়টিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইকোর্টের আসন্ন শুনানিগুলো দেশের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। যদি আদালত স্থগিতাদেশ প্রদান করে, তবে সরকারের পরিকল্পিত অনেক সংস্কার কার্যক্রম থমকে যেতে পারে।

