দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বীরের বেশে দেশে ফিরেই এক নজিরবিহীন রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার মাত্র ৫৩ দিনের মাথায় তিনি আজ দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের পাতায় এত কম সময়ে একজন ভোটারের সরকারপ্রধান হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র দুদিন পর অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বর তিনি রাজধানীর গুলশান এলাকায় ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নথি অনুযায়ী, সেই দিন থেকে আজকের এই শপথ গ্রহণের দিন পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান মাত্র ৫৩ দিন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরবর্তীতে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬—এই দুটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি একাধিক আসনে জয়ী হলে তাকে একটি আসন রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেই অনুযায়ী তারেক রহমান তার পৈত্রিক ভিটা বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী) আসনের প্রতিনিধি হিসেবেই সংসদে নেতৃত্ব দেবেন। ইসি সচিবালয় ইতিমধ্যে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যেখানে শীঘ্রই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তারেক রহমানের এই দ্রুততম সময়ে ক্ষমতায় আরোহণের বিষয়টি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একে দেশের রাজনীতির এক নতুন মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রবাসে থাকার সময় ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি সবসময়ই চেয়েছিলেন নিজ দেশে ফিরে দেশের মাটিতেই ভোটার হতে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান গত ২৭ ডিসেম্বর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ঠিকানায় ভোটার হয়েছিলেন।
বগুড়া-৬ আসনে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন, আর ঢাকা-১৭ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। আজ শপথের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক নজির স্থাপন করলেন, যা আগামী দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ভোটারের কাতার থেকে সরকারপ্রধানের আসনে বসার এই ৫৩ দিনের সফরটি নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর রাজনৈতিক পথচলা।

