বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান সরকারের ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। নব্য ও অভিজ্ঞদের মিশেলে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন মাঠের লড়াকু এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা।
মন্ত্রণালয় বণ্টন বা পোর্টফোলিও ডিস্ট্রিবিউশনে দেখা গেছে এক বড় ধরনের চমক। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অন্যদিকে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভার দেওয়া হয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদকে। অর্থনীতি ও পরিকল্পনা খাতের হাল ধরতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দ্বৈত দায়িত্ব।
জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় অভিজ্ঞ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভার। এছাড়া আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের হাতে ন্যাস্ত হয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এবারের মন্ত্রিসভায় দুই জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটায় মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিজ্ঞ কূটনীতিক ডা. খলিলুর রহমান পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অন্যদিকে, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদকে দেওয়া হয়েছে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনশীল খাতের ভার।
বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে যখন এই ২৫ জন মন্ত্রী শপথ নিচ্ছিলেন, তখন চারিদিকে ছিল এক গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ। তালিকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধর্ম বিষয়ক), মিজানুর রহমান মিনু (ভূমি), নিতাই রায় চৌধুরী (সংস্কৃতি বিষয়ক) এবং খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র)।
সিলেটের মেয়র থেকে সরাসরি মন্ত্রিসভায় আসা আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে দেওয়া হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
এছাড়াও সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং ফকির মাহবুব আনাম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভার পেয়েছেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো জটিল দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান। শেখ রবিউল আলমকে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ২৫ জনের তালিকাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠের রাজনীতির একটি সুষম বণ্টন থাকে। নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকেই দেশের জরুরি সংস্কার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার সকাল ১০টায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এই ২৫ জন মন্ত্রী তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে যোগ দেবেন। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে এখন নতুন মন্ত্রীদের বরণ করে নিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক নির্বাচিত সরকারের অধীনে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন আমলারাও।

