বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের সাক্ষী হলো মঙ্গলবার। বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ নিলেন নতুন সরকারের ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। নবীন ও প্রবীণের মিশেলে গঠিত এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল সমমনা দলগুলোর তরুণ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি, যা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শপথ নেওয়া ২৪ প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় বিএনপির দীর্ঘদিনের মাঠের নেতাদের পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিচিত মুখগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আলোচিত নেতা ইশরাক হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকির মতো ব্যক্তিত্বদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হওয়াকে অনেকেই ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন রাজপথের লড়াইয়ে অভিজ্ঞ নেতারা। তালিকায় রয়েছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শামা ওবায়েদ এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আইনি লড়াইয়ে পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং তরুণ নেতা রাজীব আহসান ও হাবিবুর রশিদও পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এছাড়া মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, শরীফুল আলম এবং ফরহাদ হোসেন আজাদের মতো নেতাদের ওপরও আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিসভার এই অংশে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মো. আমিনুল হক। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসির খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ২৪ জনের নামের তালিকাটি অত্যন্ত কৌশলীভাবে সাজানো হয়েছে। একদিকে যেমন বিএনপি তাদের নিজস্ব দলীয় শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করেছে, অন্যদিকে তেমনি নুরুল হক নুর বা ববি হাজ্জাজের মতো ভিন্ন ঘরানার নেতাদের যুক্ত করে একটি ‘জাতীয় ঐক্য’ বা ‘কোয়ালিশন’ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি বর্তমান প্রজন্মের ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এর আগে একই মঞ্চে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত এই প্রতিমন্ত্রীরা বুধবার সকাল থেকেই নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে এখন এই নতুন ও তরুণ মুখগুলোকে বরণ করে নিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
তারেক রহমানের এই ‘তরুণ ব্রিগেড’ আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে বইছে আলোচনার ঝড়। তবে আজ বিকেলের সেই শপথের মুহূর্তে নবনির্বাচিত এই প্রতিমন্ত্রীদের চোখে-মুখে ছিল এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

