নতুন সরকারের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে যখন দেশজুড়ে সাজ সাজ রব, তখন সবার মনেই প্রশ্ন—কোথায় হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন? গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন এখন একটি স্মারক ও যাদুঘর হিসেবে পরিচিত। এই বাস্তবতায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাসস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো বাসভবন নির্দিষ্ট করা হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আগত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’
প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থানের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্যও তোড়জোড় শুরু করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। আদিলুর রহমান খান জানান, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের জন্য ইতিমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ৩৭টি বাড়ি পুরোপুরি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। এই বাড়িগুলোর অবস্থান রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায়।
উপদেষ্টা আরও জানান, যদি প্রয়োজন হয় তবে আরও কয়েকটি বাড়ি প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও তাদের হাতে রয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা যেসব বাড়িতে অবস্থান করছেন, সেই বাড়িগুলোকেও এই ৩৭টির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর উপদেষ্টারা সেসব বাড়ি ছেড়ে দিলে বা রদবদল হলে নতুন মন্ত্রীরা সেখানে ওঠার সুযোগ পাবেন।
সচিবালয়ের করিডোরে গুঞ্জন রয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে এবং প্রশাসনিক সুবিধার কথা চিন্তা করে মন্ত্রিপাড়ার ভেতরেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি অস্থায়ী বাসভবন ব্যবহারের প্রস্তাব আসতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে সব কিছুই নির্ভর করছে আগামীকাল শপথ নিতে যাওয়া নতুন সরকার প্রধানের অভিপ্রায়ের ওপর।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেকগুলো বাড়ি সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়া বা সংস্কার প্রয়োজন এমন ভবনগুলোতেও দ্রুত রং এবং মেরামতের কাজ চলছে যাতে শপথের পরপরই সদস্যরা তাদের দপ্তরে এবং আবাসনে যোগ দিতে পারেন।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এই পালাবদলের সময়ে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবং নতুন সরকারের পথচলা মসৃণ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। এখন কেবল অপেক্ষা, কালকের শপথের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী তার আবাসের জন্য কোন জায়গাটিকে বেছে নেন।

