বাংলাদেশের প্রশাসনের শীর্ষতম পদে নাটকীয় এক পরিবর্তন এসেছে। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব (চুক্তিভিত্তিক) এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদের রদবদল নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে, শনিবার বিকেলেই পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিবদ্ধ নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ‘জনস্বার্থে’ জারি করা এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শেখ আব্দুর রশীদকে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া ১৯৮২ বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে যুগ্ম সচিব থাকা অবস্থায় তিনি ওএসডি হন এবং দীর্ঘ সময় পর ২০১৬ সালে অবসরে যান। বর্তমানে তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে কর্মরত আছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি তাঁর বর্তমান পদের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের গুরুদায়িত্বও পালন করবেন।
প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিবর্তন এমন এক সময়ে এল যখন দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠনের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। আজ সকালেই বিদায়ী সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে। তবে তাঁর বিদায়ের পর এখন এই শপথ অনুষ্ঠানের পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।
সিরাজ উদ্দিন মিয়া কেবল একজন দক্ষ আমলা নন, তিনি ‘সিরাজ উদ্দিন সাথী’ নামে সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে অত্যন্ত পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ, আমলাতন্ত্র, সমাজ বিবর্তন ও অর্থনীতিসহ নানা বিষয়ে তাঁর ৩২টি প্রকাশিত বই রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮১ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পাদিত ‘বেলতৈল গ্রামের জরিমন ও অন্যান্য’ বইটির প্রথম সংকলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়লগ্নে এবং একটি নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে সিরাজ উদ্দিন মিয়ার ওপর সরকারের এই আস্থা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি বড় ধরণের পরিবর্তন ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

