দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক যাত্রার মুখোমুখি বাংলাদেশ। বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ মোট ১ হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যেই তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে গেজেট প্রকাশের তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়। শনি ও রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের (১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই শুরু হবে নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের রূপরেখা নিয়ে ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, “সংসদ সদস্যদের শপথের পর নির্বাচিত দলগুলো তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করবেন। এরপর সেই দলের পক্ষ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের নেতার নাম রাষ্ট্রপতিকে জানানো হবে। রাষ্ট্রপতি নিয়ম অনুযায়ী সেই নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের আমন্ত্রণ জানাবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি।”
সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব কিছুটা রহস্য বজায় রেখে বলেন, এটি সংসদ সচিবালয়ের এখতিয়ার। তবে অনানুষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি, এমনকি প্রধান বিচারপতি কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
বঙ্গভবনের এই মহাযজ্ঞে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় থাকছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। অতিথিদের আসন বিন্যাস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বঙ্গভবন এলাকায় বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৪৫ জন হতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য ধারণা থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ও গাড়ির ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নির্বাচিত সরকারের কাছে এই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত মসৃণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে ইতিমধ্যেই কয়েক দফা টেলিফোন আলাপ হয়েছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বঙ্গভবন এবং সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ দিন পর একটি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকারকে বরণ করে নিতে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এখন প্রস্তুত। আগামী কয়েক দিন ঢাকার রাজপথে এবং বঙ্গভবনের আঙিনায় দেখা যাবে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতার এক চূড়ান্ত মহড়া।

