ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভাবনীয় সাফল্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই বিজয়কে কেবল নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া একটি নবীন দল হিসেবে মাত্র এক বছরের মাথায় ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং ছয়টিতে সরাসরি জয়লাভ করা এক অসাধারণ কৃতিত্ব। তিনি মনে করেন, এনসিপির এই সাফল্য প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ এখন আদর্শ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখতে শুরু করেছে।
নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ড. ইউনূস বলেন, “চব্বিশের সেই উত্তাল দিনগুলোতে আপনার অদম্য মনোবল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যাভিমুখী করে তুলেছিল। সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ রাজনীতির মূলধারায় আপনার এই প্রবেশ তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয় ও স্বপ্নেরই বহিঃপ্রকাশ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, নাহিদ ইসলামের সহযোদ্ধাদের ত্যাগ ও সাহসী অবস্থান জাতির হৃদয়ে চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতার আসন তৈরি করেছে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে সহকর্মী হিসেবে নাহিদ ইসলামকে পাওয়া তাঁর জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা ছিল। সেই স্বল্প সময়ে নাহিদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক প্রজ্ঞা এবং নীতিগত অটলতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ড. ইউনূস মনে করেন, গণতন্ত্র তখনই প্রকৃত অর্থে বিকশিত হয়, যখন নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসে এবং প্রজন্মান্তরের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি হয়।
বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আজকের এই জয় আগামী দিনের আরও বড় দায়িত্বের পূর্বাভাস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় সংসদে অর্জিত এই প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এনসিপি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশেষ করে তরুণদের স্বপ্নগুলোকে তুলে ধরার ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগাবে। তিনি বলেন, “রাজনীতির এই রূপান্তর যেন আপনার দলের মূল আদর্শ ও মূল্যবোধকে সবসময় অক্ষুণ্ণ রাখে, সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।”
পরিশেষে, প্রফেসর ইউনূস প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। তিনি নাহিদ ইসলামের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং রাজনৈতিক জীবনের সার্বিক মঙ্গল কামনা করে তাঁর বার্তা শেষ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই অভিনন্দন বার্তা দেশের নতুন ধারার রাজনীতির জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে এনসিপির মতো তরুণ নেতৃত্বাধীন দলের হাত ধরে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে গুণগত পরিবর্তন আসবে—এমনটাই এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।

