দীর্ঘ দেড় বছরের এক অভাবনীয় রূপান্তর এবং প্রতীক্ষার পালা শেষ হলো। আজ এক ঐতিহাসিক সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভোট দেওয়ার পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি কেন্দ্রে পৌঁছান। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তার চোখেমুখে ছিল জয়ের হাসি এবং প্রশান্তি। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, আজকের এই মুহূর্তটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি ১৬ বছরের দুঃস্বপ্নময় এক অতীত থেকে মুক্তির দলিল। বাংলাদেশ আজ থেকে এক নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করল।
প্রধান উপদেষ্টা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বারবার ‘আনন্দের’ কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আজ আমার জীবনের অন্যতম বড় আনন্দের দিন। কারণ, আজ থেকে আমরা একটি প্রকৃত নতুন বাংলাদেশ গড়ার বৈধ সুযোগ হাতে পেলাম। দেশবাসী যেভাবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভোটকেন্দ্রে এসেছেন, তা প্রমাণ করে এদেশের মানুষ কতটা গণতন্ত্রপ্রিয়।”
এবারের নির্বাচন কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সাথে যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গণভোট’। ড. ইউনূস দেশবাসীকে এই গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, এই গণভোটই ঠিক করে দেবে আগামীর বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামো এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।
তার মতে, এই দিনটি উদযাপনের দিন। উৎসবের মেজাজে দেশবাসীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে আজ উৎসব করি। এটি আমাদের মুক্তির দিন। দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে আজ আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ালাম।”
ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সকলকে ‘মোবারকবাদ’ জানান। প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, আজ সারা বাংলাদেশ পাল্টে যাবে। নতুন প্রজন্মের ভোটাররা, যারা গত দেড় দশকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তারা আজ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই এই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য। আজকের এই স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ সেই প্রক্রিয়ারই চূড়ান্ত ধাপ। অতীতের যেকোনো জালিয়াতি বা জবরদস্তির সংস্কৃতিকে দেশবাসী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সবশেষে তিনি উপস্থিত সকলকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে হাসিমুখে বিদায় নেন। তার এই বক্তব্য এবং উপস্থিতি কেবল একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন ছিল না; এটি ছিল এক নতুন স্বপ্নের যাত্রা শুরু। গুলশান মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রের আশেপাশে তখন সাধারণ মানুষের বিপুল ভিড়, যারা প্রধান উপদেষ্টার এই ঐতিহাসিক ভোটদানের সাক্ষী হতে এসেছিলেন।

