রাজধানীর জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ উচ্চ আদালতের সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ বা গণজমায়েত করা যাবে না। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
রোববার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের ফলে জনজীবনে সৃষ্ট দুর্ভোগ এবং বিচারিক কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট কিংবা যেকোনো ধরনের শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলো: প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন এলাকা। বিচারপতি ভবন ও জাজেস কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট ও জামে মসজিদ গেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর প্রবেশপথ। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সম্মুখ এলাকা।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, জননিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দাবি আদায়ের নামে হুটহাট সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নিয়ম মেনে চলার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজধানীর এই এলাকাটি আইন ও বিচার প্রশাসনের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আইনি সহায়তার জন্য আসেন। রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচির কারণে এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে বিচারিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এলাকাটিতে এখন থেকে আরও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন সংগঠন তাদের কর্মসূচি পালনে নতুন করে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। তবুও সাধারণ নগরবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হলো, বিচারিক এই সংবেদনশীল এলাকায় যাতায়াত ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড এখন থেকে আরও নির্বিঘ্ন হবে।

