আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়ে সংসদে আসবেন, তাদের শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক এই শূন্যতা কাটাতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা এই নতুন আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেহেতু বর্তমান স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকারের অবস্থানও শপথ পড়ানোর মতো স্বাভাবিক নয়, তাই বিকল্প পথেই হাঁটবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি কেন?
সাধারণত নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান বিদায়ী সংসদের স্পিকার। তিনি না থাকলে সেই দায়িত্ব পালন করেন ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইন উপদেষ্টা বলেন, “স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন বর্তমানে নিখোঁজ এবং অন্যজন কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর সব মামলা রয়েছে। এর মধ্যে স্পিকার ইতিমধ্যে পদত্যাগও করেছেন। এই অবস্থায় তাদের দিয়ে শপথ পাঠ করানোর কোনো আইনগত বা নৈতিক সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।”
দুই বিকল্প: রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা সিইসি
আইন উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সংকট নিরসনে সরকারের সামনে এখন দুটি প্রধান পথ খোলা আছে:
১. রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি: প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কোনো একজন ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন। আসিফ নজরুলের মতে, এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি): আইন অনুযায়ী, যদি অন্য কোনোভাবে শপথ আয়োজন সম্ভব না হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজে বিজয়ীদের শপথ পাঠ করাতে পারেন।
তবে সিইসির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা কালক্ষেপণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “সিইসির ক্ষেত্রে আমাদের তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আমরা চাইছি নির্বাচনের পর কোনো দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের ব্যবস্থা করতে।”
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে সংসদ সচিবালয়
বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আইন উপদেষ্টা জানান, সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে তিনি দ্রুতই বৈঠকে বসবেন। আইনের খুঁটিনাটি যাচাই করে চূড়ান্ত অভিমত দেওয়া হবে প্রধান উপদেষ্টাকে। এরপরই রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ পরিচালনাকারীর নাম ঘোষণা করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৫ আগস্টের পর সংসদ ভেঙে যাওয়া এবং স্পিকারের পদত্যাগের ফলে যে নজিরবিহীন আইনি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আইন উপদেষ্টার এই বক্তব্য সেই জটিলতা কাটানোর একটি স্পষ্ট রূপরেখা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একটি কার্যকর সংসদ গঠনের পথে এটিই হবে প্রথম বড় ধাপ।

