দীর্ঘ দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট (রেড পাসপোর্ট) ইতোমধ্যেই জমা দিয়ে দিয়েছেন এবং আপাতত বিদেশ ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
উপদেষ্টা বলেন, “আমি আমার পাসপোর্ট জমা দিয়ে দিয়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই। খুব জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া আমি সাধারণত বিদেশ সফরে যাই না। শুধু আমি নই, আমাদের আরও অনেক উপদেষ্টাই নিয়ম মেনে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দায়িত্ব হস্তান্তরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা পূরণে সচেষ্ট।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। দেড় বছরের প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. সালেহউদ্দিন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমি মনে করি, দেশের অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল (Stable) অবস্থায় রেখে যাচ্ছি। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন সবকিছু ছিল নড়বড়ে। কিন্তু এখন যে ভিত তৈরি হয়েছে, তাতে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য দেশ পরিচালনা করা খুব একটা কঠিন হবে না।”
তিনি ‘সন্তোষজনক’ শব্দটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, অর্থনীতি এখন এমন একটি পর্যায়ে আছে যেখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। নড়বড়ে অবস্থা কাটিয়ে এটি এখন টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমান সরকারের আমলে সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়ার সমালোচনা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা পরিসংখ্যান দিয়ে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমরা ঋণ নিয়েছি, কিন্তু পাশাপাশি রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধও করেছি। আমরা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ শোধ দিয়েছি। এটি অর্থনীতির সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।”
আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনো চুক্তি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। কারণ, ওই প্রক্রিয়ার সাথে তিনি সরাসরি যুক্ত নন।
নির্বাচনে ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ সঠিক অংকটি তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে না পারলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে অর্থের কোনো কার্পণ্য করা হয়নি। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় সব খাতেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত যে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, তাও দ্রুত ছাড় করার নির্দেশ দিয়েছি।”
পাসপোর্ট জমা দেওয়া এবং ঘরমুখী হওয়ার এই বার্তা দিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মূলত এক শান্ত ও সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিলেন। তার মতে, একটি ধ্বংসোন্মুখ অর্থনীতিকে টেনে তুলে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনাই ছিল তার বড় সাফল্য। এখন কেবল দেখার বিষয়, আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা এই স্থিতিশীলতাকে কতটা ধরে রাখতে পারেন।

