রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় আজ কয়েক ঘণ্টা ধরে ছিল কারিগরি শিক্ষার্থীদের দখলে। ১০ম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের নতুন নীতিমালার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা এই অবরোধে দুপুরের পর থেকে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর একটি বড় অংশ। বিকেলে শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে দিলেও তার রেশ ধরে দীর্ঘ সময় যানজটে নাকাল হতে হয়েছে সাধারণ নগরবাসীকে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী সাতরাস্তা মোড়ে অবস্থান নেন। তাদের মূল অভিযোগ—সম্প্রতি সরকারের একটি কমিটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদের নিয়োগে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের যে সুপারিশ করেছে, তা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের স্বার্থবিরোধী ও বৈষম্যমূলক।
অবরোধের ফলে মহাখালী, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও বিজয়নগরগামী সড়কগুলোতে যানবাহনের চাকা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক। তীব্র গরমে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়। এমনকি অনেক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকেও বিকল্প পথ না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম মিশান ঘোষণা করেন, এই দাবি কেবল তাদের একার নয়, এটি পুরো কারিগরি শিক্ষার অস্তিত্বের লড়াই। তিনি বলেন, “দশম গ্রেড বরাবরই ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। সেখানে বিএসসিদের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ কারিগরি শিক্ষাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। আমরা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে এই বিতর্কিত সুপারিশ বাতিল না হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা ঢাকামুখী হবে।”
বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর এবং আল্টিমেটাম দিয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে যান। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে যান চলাচল শুরু হলেও গাড়ির যে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিক হতে অন্তত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে।
পুলিশ জানায়, সাতরাস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ায় এখানকার যানজটের প্রভাব আশপাশের বিজয় সরণি ও ফার্মগেট এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে চরম বিরক্তি ও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, আগামীকাল বুধবার পবিত্র শবে বরাতের ছুটি থাকায় নতুন কোনো কর্মসূচি রাখেনি আন্দোলনকারীরা। তবে আগামীকালের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বৃহস্পতিবার থেকে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বারবার শিক্ষার্থীদের এমন অবরোধ জনজীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা। সাধারণ মানুষের দাবি, দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলন যেন সাধারণ মানুষের পথ চলার অধিকারকে জিম্মি না করে।

