জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদে নিজের নিয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, “বিশ্বে কোথাও বিমান নেই।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই উপদেষ্টার মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন— বিশ্বের আর কোনো দেশে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমানের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে রাখা হয় কি না? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই তিনি এমন রহস্যময় বা শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্যের প্রকৃত অর্থ কী, তা নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়। এতে প্রথমবারের মতো জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অ্যভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানে বোয়িং-এর সাথে নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুগুলো সমন্বয়ের জন্যই হয়তো এই উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পর্ষদে আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এমন ‘অস্বাভাবিক’ নিয়োগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, “এটি একটি হাইপোথিটিক্যাল (অনুমান নির্ভর) প্রশ্ন। রাষ্ট্র পরিচালনা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা বিধি অনুযায়ী চলবে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দুই উপদেষ্টার মধ্যে বিশদ আলোচনা হয়েছে। তবে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে ড. খলিলুর রহমানের সংক্ষিপ্ত ও দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্যটিই এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রে।

