আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রেলপথে বড় ধরণের নাশকতার আশঙ্কা করছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রী, ট্রেন এবং রেলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি অফিস আদেশে এই কঠোর নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমা তুজ জোহরা স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় এই নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি বা নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহন হিসেবে রেলওয়েকে লক্ষ্যবস্তু করার ঝুঁকি থাকায় জনস্বার্থ রক্ষায় বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে রেলের প্রতিটি জোনে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ রাখতে রেল পুলিশ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এখন থেকে বাড়তি টহল ও নজরদারি বজায় রাখবে।
অফিস আদেশে কেবল প্রশাসনের তৎপরতাই নয়, সাধারণ জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো রেল স্টেশন, গেট বা ট্রেনের আশপাশে সন্দেহভাজন কাউকে নাশকতার চেষ্টা করতে দেখা যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট গেটকিপার, স্টেশন মাস্টার অথবা রেল পুলিশকে অবহিত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষের সজাগ দৃষ্টি এবং তাৎক্ষণিক তথ্য প্রদান বড় ধরণের দুর্ঘটনা রুখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচনী উত্তাপে যখন সারা দেশ সরগরম, তখন রেলের মতো বিশাল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতে নাশকতার ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে ও পরে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগটি মূলত দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার একটি অংশ। সরকার চাচ্ছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা উত্তাপের প্রভাব যেন কোনোভাবেই দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর না পড়ে।

