নির্বাচনী উত্তাপ ছাপিয়ে এখন শোক আর আতঙ্কের ছায়া শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে। ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে এক গুমোট ও থমথমে পরিস্থিতি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ঝিনাইগাতী সদরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে এক প্রকার অঘোষিত হরতাল পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল একদমই হাতেগোনা। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ। মানুষের চোখেমুখে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা। গতকালের সেই রণক্ষেত্রের ক্ষত এখনো দগদগে।
নিহত রেজাউল করিমের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। বিকেলে ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা এবং পরে রাতে গোপালখিলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের নেতারা।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বুধবার বিকেলে। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মঞ্চে সকল প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার কর্মসূচি ছিল। সেখানে সামনের সারির চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইটপাটকেল আর দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে শেরপুর-৩ আসনের রাজনীতিতে এখন উত্তাপ তুঙ্গে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরকে এই প্রাণহানির জন্য দায়ী করছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।
মাওলানা রেজাউল করিম পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার এই আরবিক প্রভাষকের এমন মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের মাতম। এদিকে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এই জানাজা থেকেই বড় ধরনের কোনো কর্মসূচির ডাক দিতে পারেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো ধারণা করছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই রক্তপাত জেলার নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলল।

