আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের তিন জেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। আজ বুধবার দুপুরে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান জানান, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন নির্দিষ্ট এলাকায় মোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাভার ও ধামরাইয়ের দুটি আসনের জন্য ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এবারের নির্বাচনে বিজিবি কেবল প্রথাগত টহলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত দল ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির বিশেষ ‘কে-৯’ ডগ স্কোয়াড নিয়োজিত থাকবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি যেকোনো বিস্ফোরক বা নাশকতামূলক সরঞ্জাম শনাক্ত করতে এই দল কাজ করবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি ও দ্রুত সেনা স্থানান্তরের প্রয়োজনে হেলিকপ্টারও স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে। এছাড়া বিজিবি সদস্যরা এবার বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন, যা মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্ত সদর দপ্তর থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবির ভূমিকা এবার আরও বিস্তৃত। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক স্পষ্ট করে বলেন, “এবার ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বিজিবির প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।” যদি কোনো প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চান অথবা কেন্দ্রে সহিংসতা ও জাল ভোটের আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে একটি সুসজ্জিত মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বিজিবি আশা করছে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

