ইতালি গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে ঢাকার ইতালি দূতাবাস। বিশ্বব্যাপী ইতালির ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ছয় দিন ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইতালি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১১, ১২, ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে সব ইতালীয় ভিসা অফিস বা সেন্টারে কোনো ধরনের নতুন আবেদন জমা নেওয়া হবে না। মূলত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেমকে আরও আধুনিক এবং গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সাময়িক বিরতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের ইতালিয়ান মিশনগুলো একই সূচি মেনে চলবে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের অফিশিয়াল পার্টনার ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ (VFS Global) কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন ওই নির্দিষ্ট দিনগুলোতে কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ না করা হয়। এমনকি আগে জমা দেওয়া আবেদনপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধও এই সময়কালে গ্রহণ করা হবে না। তবে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদি দূতাবাস আগে থেকে কোনো প্রার্থীর কাছে অতিরিক্ত কোনো নথিপত্র চেয়ে থাকে, তবে কেবল সেই নির্ধারিত কাগজগুলো ওই বন্ধের দিনগুলোতেও জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
এই ঘোষণার ফলে যারা ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইতালিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বেশ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দূতাবাস আবেদনকারীদের প্রতি একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। যাদের ১১ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বা তার আশেপাশে জরুরি ভিত্তিতে ইতালি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বার্তায় বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, একটি সাধারণ ভিসা অনুমোদনের জন্য ন্যূনতম ১০ কর্মদিবস সময়ের প্রয়োজন হয়। ফলে সিস্টেম আপগ্রেডেশনের ওই ৬ দিন যদি কেউ পিছিয়ে যান, তবে পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিলম্ব ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যারা কর্মসংস্থান বা পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য এই সময়সূচি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার ইতালি দূতাবাস জানায়, এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বিশ্বব্যাপী একযোগে পরিচালিত হবে যাতে ভিসা তথ্যভাণ্ডার আরও সুরক্ষিত এবং দ্রুততর করা যায়। বছরের এই সময়ে ইউরোপ ভ্রমণের চাপ কিছুটা বেশি থাকায় অনেক আবেদনকারী ভিএফএস সেন্টারে ভিড় করেন। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ভিসা প্রার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি ও অংশীজনদেরও এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সিস্টেম পুনরায় চালু হওয়ার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে যথারীতি সব কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বন্ধের এই দিনগুলোতে যারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন, তাদের পরবর্তী সময়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সাধারণত ইতালির ভিসার জন্য বাংলাদেশে প্রচুর চাহিদা থাকে, বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প খাতে মৌসুমি শ্রমিকের ভিসার জন্য। এই সাময়িক বিরতির ফলে হাজার হাজার মানুষের আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে দূতাবাস বারবার দ্রুত আবেদনের ওপর জোর দিচ্ছে।
ইতালি ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানের কঠোর নিয়মকানুন এবং লম্বা ওয়েটিং পিরিয়ডের মধ্যে এই ৬ দিনের স্থগিতাদেশ বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। আবেদনকারীদের নিয়মিতভাবে ভিএফএস গ্লোবালের ওয়েবসাইট এবং দূতাবাসের অফিশিয়াল আপডেটগুলো ফলো করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
পরিশেষে, ইতালির ভিসা পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য এই সিস্টেম আপগ্রেডেশনের সময়কালটি মাথায় রেখেই ভ্রমণের ফ্লাইট বুকিং বা হোটেল রিজার্ভেশন নিশ্চিত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যারা আগে থেকেই ইতালিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

