কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনে আজ এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় তার প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে, তা কঠোরভাবে এড়িয়ে যান উপদেষ্টা। বারবার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আজ কৃষি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে উত্তর দেব না।”
রোববার দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই ব্রিফিংটি মূলত কৃষিখাতের সার্বিক উন্নয়ন ও সমসাময়িক সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও মানবিক একটি ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। সম্প্রতি কারাগারে থাকা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নাকচ হওয়া নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে।
ব্রিফিংয়ের নির্ধারিত আলোচনা শেষে সাংবাদিকরা যখন যশোরের সেই বিতর্কিত ঘটনার দিকে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তখন তিনি বেশ রক্ষণাত্মক ভঙ্গি গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “না, আমি কৃষি ছাড়া কোনো উত্তর দেব না।” একজন সাংবাদিক তাকে মনে করিয়ে দেন যে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে আছেন এবং নাগরিক অধিকারের বিষয়ে তার দায়বদ্ধতা রয়েছে। জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “না, আমি দায়বদ্ধ নই। আজকে আমি কৃষির জন্য ডেকেছি। আপনারা কৃষকদের সমস্যা নিয়ে জিজ্ঞেস করেন না কেন? সেগুলোই তো আসল সমস্যা।”
উপদেষ্টা যখন কৃষি সংক্রান্ত আলোচনার বাইরে যেতে অস্বীকৃতি জানান, তখন সংবাদকক্ষে এক প্রকার অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে আসে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, গণমাধ্যম কৃষকদের প্রকৃত সংকটগুলো তুলে না ধরে রাজনৈতিক বিষয়ে বেশি আগ্রহী। তবে একজন সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন করেন যে, ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হওয়ার কারণে কি তাদের আইনি অধিকার বা জামিন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে? জবাবে কিছুটা মেজাজ হারিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নয়, ক্রিমিনালদের জামিন দেওয়ার বিষয়ে আমি কথা বলছি। এখন দয়া করে কৃষির বিষয়ে প্রশ্ন করুন।”
উপদেষ্টার এমন অনড় অবস্থানের পরও সাংবাদিকরা সাদ্দামের মানবিক বিষয়টি নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি গুমোট হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই দ্রুত সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন তিনি। ফলে ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান কী, বা এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে কি না—সেই ধোঁয়াশা থেকেই গেল।
উল্লেখ্য, বাগেরহাটের সেই ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একটি সহিংসতা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও কোলের সন্তান নিহত হলেও প্রশাসন তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রশাসনের এই অনড় অবস্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সরাসরি মন্তব্য শোনার অপেক্ষায় ছিলেন সংবাদকর্মীরা, যা শেষ পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেল।

