আমাদের চারপাশের দূষণ আর অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস চুলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। বিশেষ করে খুশকি আর অকালে চুল ঝরে পড়ার সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ এখন মেলা ভার। আমরা সাধারণত দামী তেলের বিজ্ঞাপন দেখে সেগুলো চুলে মাখি, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে, চুল হলো আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের প্রতিফলন। অর্থাৎ, আপনার শরীর কতটা পুষ্টি পাচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে চুলের জেল্লা।
চুলের প্রধান উপাদান হলো এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন, যাকে বলা হয় ‘কেরাটিন’। সহজ কথায়, প্রোটিনই হলো চুলের প্রধান কারিগর। যখনই আমাদের প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কমে যায়, তখনই চুল তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি হারায় এবং পাতলা হতে শুরু করে। তাই মজবুত চুলের জন্য পাতে নিয়মিত ডিম, মাছ বা মুরগির মাংস রাখা জরুরি। যারা নিরামিষাশী, তারা সয়াবিন, ডাল কিংবা বাদাম থেকে এই প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারেন।
চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ঝাড়ুর মতো হয়ে যাওয়া রোধ করতে ভিটামিন এ-এর ভূমিকা অনবদ্য। আমাদের মাথার ত্বকে ‘সিবাম’ নামক একটি প্রাকৃতিক তেল উৎপন্ন হয়, যা চুলকে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজড রাখে। গাজর, মিষ্টি আলু আর পালং শাক এই ভিটামিনের ভাণ্ডার। তবে মনে রাখবেন, যেকোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়; ভিটামিন এ-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
অনেকেরই অভিযোগ থাকে যে তাদের চুলের উজ্জ্বলতা হারিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি কেবল স্ক্যাল্পকে হাইড্রেটেড রাখে না, বরং চুলকে সিল্কি করে তোলে। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি তিসি বীজ (ফ্ল্যাক্স সিড) বা আখরোট এই ফ্যাটি অ্যাসিডের দারুণ উৎস।
মানসিক চাপের কারণে বা বয়সজনিত কারণে যাদের চুল ঝরে যাচ্ছে, তাদের জন্য ভিটামিন ই পরম বন্ধু। এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়াকে সতেজ রাখে। বিকেলের নাস্তায় অল্প কিছু কাঠবাদাম বা সূর্যমুখীর বীজ খেলে আপনার চুলের হারানো জৌলুস দ্রুত ফিরে আসতে পারে।
সবশেষে বলা প্রয়োজন আয়রনের কথা। রক্তাল্পতা বা আয়রনের অভাব থাকলে চুলের গোড়া পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে চিরুনি দিলেই গুচ্ছ গুচ্ছ চুল উঠে আসে। পালং শাক বা মসুর ডালের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় একটু লেবুর রস বা ভিটামিন সি রাখা উচিত, যাতে শরীর সহজেই আয়রন শুষে নিতে পারে।

