আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জটিল কিছু নতুন পদ্ধতির কারণে এবার ভোট গণনায় বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। ফলাফল বিলম্বিত হওয়া নিয়ে যেন কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও তিনি জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফলাফল ঘোষণায় দেরির পেছনে তিনটি যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করেন: ** সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের যুগপৎ ভোটগ্রহণ:** প্রথমবারের মতো ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দুটি ভিন্ন ব্যালটে ভোট গ্রহণ এবং পরে তা আলাদাভাবে গণনা করার জন্য নির্বাচনি কর্মকর্তাদের বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হবে।
** পোস্টাল ব্যালটের আধিক্য:** প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত চাকরিজীবীদের জন্য এবার ব্যাপক পরিসরে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যালটগুলো মূল ভোট গণনার সঙ্গে সমন্বয় করতে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন।
** স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা:** শফিকুল আলম জানান, সরকার চায় এবারের নির্বাচনের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন শতভাগ স্বচ্ছ হয়। তাড়াহুড়ো করে ফলাফল দিতে গিয়ে যেন কোনো ভুল বা বিতর্কের সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই ধীরে সুস্থে গণনার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি এলাকা বা সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় এর আগে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোট স্থগিত হওয়ার গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। তবে বুধবারের ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেই জটিলতা এখন নিরসন হয়েছে। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল অর্থাৎ ৩০০ আসনেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, আজ (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যালট পেপার ছাপার কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ড্রোন ও বডি ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
শফিকুল আলম বলেন, “আমরা চাচ্ছি খুব সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট গণনা হোক। কোনো গুজব যেন পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমরা আগেভাগেই সম্ভাব্য বিলম্বের বিষয়টি পরিষ্কার করছি।”

