ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক লড়াইয়ের দামামা বেজে উঠল আজ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেই শেষ হলো নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই প্রার্থীরা নামছেন আনুষ্ঠানিক প্রচারণায়।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সকাল থেকেই ছিল প্রার্থীদের ভিড় আর সমর্থকদের উদ্দীপনা। প্রতীক বরাদ্দের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই উৎসবমুখর ও সহযোগিতামূলক পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আজকের এই প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আমরা চমৎকার সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখেছি। প্রত্যেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার মৌখিক ও লিখিত অঙ্গীকার করেছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশ যেন কোনোভাবেই কলুষিত না হয়, সেদিকে প্রশাসনের তীক্ষ্ণ নজর থাকবে। “আমরা প্রত্যাশা করি, প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখবেন এবং একটি সুস্থ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে আমাদের সহায়তা করবেন,” বলেন তিনি।
বিভাগীয় কমিশনারের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা বিভাগের ১৩টি আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর বর্তমানে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৩৭ জন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এই সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি জানান, উচ্চ আদালতের কিছু আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েকজন প্রার্থী; সেগুলো নিষ্পত্তি হলে প্রার্থীর সংখ্যা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি ঢাকা-১৭ আসনে তার প্রতিনিধির মাধ্যমে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এবারের নির্বাচনে সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রার্থীদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আগামীকাল (২২ জানুয়ারি) থেকে পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। যারা সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না, তাদের জন্য ১৩টি আসনে আলাদা ব্যালট বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রচারণার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নে বিভাগীয় কমিশনার আশ্বস্ত করে বলেন, “কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যার জবাব সন্তোষজনক পাওয়া গেছে।”
নিরাপত্তা নিয়ে প্রার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রার্থীরা যেন নির্ভয়ে প্রচারণা চালাতে পারেন, সেটি আমাদের অগ্রাধিকার। বড় ধরনের কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই, বরং পরিবেশ এখন পর্যন্ত বেশ ইতিবাচক।”

