আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ভোটগ্রহণের আগে দেশের কোথাও যেন অবৈধ বা লুণ্ঠিত অস্ত্রের ঝনঝনানি না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই সিদ্ধান্তগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুততম সময়ে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রেস সচিব বলেন, “নির্বাচনমুখী প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, জনগণের হাতে থাকা প্রতিটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কোনো ছাড় না দিয়ে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে আল্টিমেটাম ও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এখনো বেশ কিছু ভারী ও অত্যাধুনিক অস্ত্র অপরাধীদের হাতে রয়ে গেছে। এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনের সময় পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকায় প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি নিয়ে জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক ডাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে এখন থেকে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিকার। লিঙ্গ সমতা ও শব্দ চয়নের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিকার-এর এই বৈঠকে আরও বেশ কিছু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের কাজ ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি যেন আরও সহজ হয়, সে অনুযায়ী মাঠ প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। এছাড়া জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজের অগ্রগতির ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার এই ‘অস্ত্র উদ্ধার’ তাগিদ মূলত নির্বাচন বর্জন বা স্থগিত করার যে কোনো অপচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার একটি বার্তা। সম্প্রতি লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার পর সরকারের এই সক্রিয় অবস্থান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযানের রূপরেখাও পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।

