দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই আর শত শত গ্রাহকের মামলার ভারে জর্জরিত এই দম্পতিকে সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৯১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেবল ধানমন্ডি থানায় তাদের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা ও ওয়ারেন্ট জমা পড়েছিল। এছাড়া কাফরুল ও সাভারসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন মেয়াদে আদালত থেকে দেওয়া সাজা কার্যকর করতে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়।
ইভ্যালির এই পতন ও উত্থানের গল্প বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের জন্য এক বড় ক্ষত। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিশাল ছাড়ে মোটরসাইকেল, টিভি, এসিসহ দামি পণ্য বিক্রির প্রলোভন দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের নজরে আসে। তবে পণ্য সরবরাহ না করে এবং টাকা ফেরত না দিয়ে প্রায় ৫৪৩ কোটি টাকার দায় কাঁধে নিয়ে একপর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে প্রথমবার এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সেই সময় তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়। এরপর শামীমা নাসরিন ২০২২ সালের এপ্রিলে এবং মোহাম্মদ রাসেল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর তারা আবারও ব্যবসা চালুর চেষ্টা করলেও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গত বছরের শেষদিকে বেশ কয়েকটি প্রতারণা মামলায় আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এক মাস আগেই একটি মামলায় তাদের ১৫ মাস এবং অন্য একটি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এসব মামলায় দীর্ঘদিন তারা পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আদালত পাড়ায় কান পাতলেই শোনা যায় প্রতারিত গ্রাহকদের দীর্ঘশ্বাসের কথা। অনেক গ্রাহক তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ইভ্যালির চটকদার অফারে বিনিয়োগ করেছিলেন। আজ রাসেল-শামীমার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ একে ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ—টাকা ফেরত পাওয়ার আশা কি এবার তবে শেষ হয়ে গেল?
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবারই আদালতে তোলা হবে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা কয়েকশ ওয়ারেন্টের বিপরীতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিবি থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

