সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের তোলা কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত দলের ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণতহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও সেখানে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিতর্ক ও ছাত্রদলের অভিযোগের বিষয়টিই প্রাধান্য পায়।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তাদের দল যখনই প্রভাবশালী ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা এখন আমাদের ভয় পাচ্ছে। নিজেদের কালো টাকা বাঁচাতে তারা ‘সাপ্লাই দেওয়া নিউজ’ বা অর্থের বিনিময়ে ফরমায়েশি সংবাদ প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল এর আগে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে এতটা আপসহীন অবস্থান নিতে পারেনি। এই কঠোর অবস্থানের কারণেই তাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের জবাবে আসিফ মাহমুদ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে তোলা কোনো অভিযোগের পক্ষেই এখন পর্যন্ত কোনো ‘সলিড’ বা বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারেনি। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তবে তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হোক। অভিযোগের সত্যতা মিললে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।”
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই শক্তিশালী স্বৈরশাসনের সময়ও অনেক গোপন নথি ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ফলে তার বিরুদ্ধে যদি সত্যিই কোনো অনিয়ম থাকে, তবে তা গোপন থাকা সম্ভব নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক তদন্ত হলে তার স্বচ্ছতা প্রমাণিত হবে।
নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ঘিরে সাম্প্রতিক বাদানুবাদের প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ একটি রহস্যজনক প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “যখন আমরা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে কোনো বিষয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন করি, তখন কেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পাল্টা জবাব আসতে শুরু করে? ইসি কি নিজের কথা বলতে অক্ষম?”
দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে এই তরুণ নেতা বলেন, আগামী কয়েক দিনে তার বা তার দলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে আরও কিছু বানোয়াট ও মুখরোচক সংবাদ সংবাদমাধ্যমে আসতে পারে। একে তিনি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন এবং দেশবাসীকে এসব ‘পেইড নিউজ’ বা ফরমায়েশি খবরে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া এই সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ তার দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্রদল ও আসিফ মাহমুদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।

