প্রবাসী ভোটারদের জন্য প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় যেকোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়ম রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রবাসে বসে কেউ যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পবিত্রতা নষ্ট করার চেষ্টা করেন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্থায়ীভাবে ব্লক করাসহ তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১২১টি দেশে অবস্থানরত ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘কিউআর কোড’ ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কমিশন জানতে পেরেছে যে, প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩টি ব্যালট ইতিমধ্যে ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে। তবে ভুল ঠিকানার কারণে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট অবিলিভারড হিসেবে ফেরত এসেছে, যার সিংহভাগই মালয়েশিয়া ও ইতালি থেকে আসা। তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা একটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ, আর এই মহৎ উদ্যোগটিকে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হীন স্বার্থে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি বাহরাইন, ওমান ও কুয়েতে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ভিডিওর বিষয়েও কমিশন ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। বাহরাইনে একই ঠিকানায় অনেক প্রবাসীর বসবাস হওয়ায় বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশনের সময় কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও মিশন প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটারকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট প্রদর্শন ব্যতিরেকে কোনোভাবেই ব্যালট হস্তান্তর করা যাবে না। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেও একজনের ব্যালট অন্যজনকে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, এই অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা অতিউৎসাহী ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্য কারো ব্যালট সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। ভবিষ্যতে ভোট প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করতে ‘লাইভ ফেস ভেরিফিকেশন’ বা সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার কথাও ভাবছে কমিশন। প্রবাসী ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের’ ভোটাধিকার প্রয়োগের এই সুযোগটি যেন কলঙ্কমুক্ত থাকে, সে জন্য সকল দেশপ্রেমিক প্রবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছে ইসি।

