আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন এক ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেছে ১১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘নির্বাচনী ঐক্য’। এই জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে সারাদেশে তার দলের কোনো একক প্রার্থী থাকবে না। বরং ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রতিটি আসনে ঘোষিত অভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে এই ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এ দেশের মানুষের মধ্যে যে নতুন এক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এই ঐক্য মূলত সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। সংস্কারকামী শক্তি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল চেতনা ধারণকারী এবং স্বাধীনতার (আজাদি) পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আজ এক অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়িয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা।
নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “আমরা সারাদেশে জোটগতভাবে প্রার্থী দিয়েছি যাতে আমাদের ভোটগুলো বিভক্ত না হয়। ১১টি রাজনৈতিক দল একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করবে। এটি কেবল একটি নির্বাচনী জোট নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার।” তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই ঐক্যের ফলে ভোটের মাঠে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং জনগণের প্রত্যাশার বিজয় সুনিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠেয় গণভোটেও জোটের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঐক্য জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করবে, যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, যারা পরিবর্তনের কাণ্ডারি, তাদের স্বপ্ন পূরণে এই জোট অঙ্গীকারবদ্ধ। বিপ্লবের পরবর্তী বাংলাদেশে একটি সাম্য ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এই নির্বাচনী ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

