বাংলাদেশের আগামী একশ বছরের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লক্ষ্যে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তে ভেজা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রে টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে এই গণভোট একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের সামনে গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তার বক্তব্যে বিগত ১৫ বছরের ভোটাধিকার হরণের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের মানুষ নিজের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। সেই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার অবসান ঘটাতে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কেউ গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কারগুলো—যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী রূপদান, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা—জনগণের প্রত্যক্ষ সম্মতিতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
অনুষ্ঠানে শিল্প উপদেষ্টা সুসজ্জিত একটি প্রচার গাড়ির উদ্বোধন করেন, যা চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে ঘুরে গণভোটের গুরুত্ব এবং ভোট দেওয়ার নিয়মাবলী প্রচার করবে। তিনি চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পরিবর্তনের চাবি এখন আপনাদের হাতে। এই একটি ভোটই নির্ধারণ করবে আমরা কি আগের অন্ধকার যুগে ফিরে যাব, নাকি একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করব।” এর আগে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা বর্তমানে ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠনে দেশব্যাপী সপ্তাহব্যাপী প্রচার অভিযান পরিচালনা করছেন। শিল্প উপদেষ্টা চট্টগ্রামের এই কর্মসূচি থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জনগণের রায়ই হবে নতুন বাংলাদেশের পথচলার মূল শক্তি। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এবং গণভোটের ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় শামিল হবে।

