জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অভ্যন্তরীণ কৃষি চাহিদা মেটাতে সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় আমদানিতব্য এই সার কৃষি খাতের সরবরাহ চেইনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সার আমদানির এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অনুমোদিত হয়েছে। সৌদি আরবের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি’ থেকে এই ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৯০ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে মোট আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ১ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকার সমপরিমাণ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক চাহিদার অংশ হিসেবে এই সার আমদানি করা হচ্ছে। সরকার ইতিপূর্বেই সৌদি আরবের উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করেছে। চুক্তির শর্তানুসারে, বর্তমান অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির কথা রয়েছে।
এর পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরে আপদকালীন সংকট মোকাবিলা এবং স্থানীয় সার কারখানাগুলোর উৎপাদন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই চুক্তির আওতায় মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সংগ্রহের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বাংলাদেশে ধান ও অন্যান্য রবি শস্য চাষের মৌসুমে ইউরিয়া সারের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সময়মতো সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে ফসলের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরকারের এই সময়োপযোগী আমদানির ফলে প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে এবং সহজলভ্য উপায়ে সার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামের অস্থিরতা বিবেচনায় রেখে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে এই বিশাল পরিমাণ সার সংগ্রহকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জানানো হয় যে, কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তায় সার আমদানির পাশাপাশি বিতরণের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। বাফার গোডাউনগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখার মাধ্যমে যেকোনো ধরণের কৃত্রিম সংকট রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

