বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা তথা প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি বড় সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত শরীয়াহভিত্তিক বা সুদমুক্ত ঋণ ব্যবস্থা অবশেষে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে চালু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিশেষ তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সাথে আজ তার এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বস্ত করেছে যে, চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শরীয়াহভিত্তিক ঋণ প্রদান প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে। মূলত যারা ধর্মীয় কারণে প্রচলিত সুদী ব্যবস্থা থেকে দূরে থাকতে চান, তাদের জন্য এই উদ্যোগটি একটি বিশাল স্বস্তির বিষয় হতে যাচ্ছে।
উপদেষ্টা তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীদের কল্যাণে এই মহৎ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপটি নিতে তাকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ। প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং তাদের জন্য হালাল বিনিয়োগ বা ঋণের পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনি শায়খ আহমাদুল্লাহকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে অভিবাসন ঋণ, পুনর্বাসন ঋণ এবং নারী উদ্যোক্তা ঋণের মতো বিভিন্ন স্কিম চালু থাকলেও সেগুলো প্রচলিত সুদী ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতো। কিন্তু নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসীরা এখন শরীয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে বিনিয়োগ বা ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, এই সেবাটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের একটি বড় অংশই সুদমুক্ত আর্থিক লেনদেন করতে আগ্রহী। শরীয়াহভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা চালু হলে তারা আরও নিশ্চিন্তে বিদেশ যাওয়ার খরচ (অভিবাসন ঋণ) কিংবা দেশে ফিরে এসে নতুন কোনো ব্যবসা শুরুর জন্য অর্থায়ন পেতে উৎসাহিত হবেন। এটি কেবল প্রবাসীদের কল্যাণেই নয়, বরং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ নাগাদ একটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের বিস্তারিত নীতিমালা এবং আবেদন প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। আসিফ নজরুলের এই ঘোষণাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং প্রবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

