আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী’ কর্মকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টিকে তারা আসন্ন নির্বাচনে কোনোভাবেই দেখতে চায় না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। বৈঠকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং বিগত সরকারের দোসরদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিল। তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, এই দলটিকে নির্বাচনে রাখা মানে ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশকে বৈধতা দেওয়া। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বাসন চাই না এবং দেশের সচেতন জনগণও তা গ্রহণ করবে না।”
এনসিপির এই কঠোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, কমিশন তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে। সিইসি তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এ বিষয়ে দেশের প্রচলিত আইন এবং নির্বাচনি বিধিবিধান পর্যালোচনা করে বিধিবদ্ধভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দাখিলকৃত মোট ২২৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৫৭ জনের আবেদন বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে। বর্তমানে দলটির ১৬৭ জন প্রার্থী বৈধ হিসেবে টিকে আছেন। তবে এনসিপি’র মতো নতুন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জাপাকে বর্জনের এই জোরালো দাবি নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী দলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিতর্ক চলছে, আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য তারই প্রতিফলন। জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হলে যারা গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করা জরুরি। এখন নির্বাচন কমিশন আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে এই রাজনৈতিক চাপ কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই দেখার বিষয়।

