আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ২১ জানুয়ারির আগে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন এই কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা ওই বার্তায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তফশিল অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করতে পারবেন। এর আগে যেকোনো ধরনের জনসভা, মিছিল বা প্রচারণামূলক কার্যক্রম নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণা করেন। সেই তফশিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একযোগে সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া চলছে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর পরদিনই চূড়ান্ত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারির ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করতে হবে। সেই হিসেবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকালের পর থেকে কোনো প্রার্থী আর প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কমিশনের এই কঠোর অবস্থান মূলত নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আগাম প্রচারণার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হয়েছেন। তবে সোমবারের এই সতর্কবার্তার পর মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালালে তার প্রার্থিতা বাতিল বা জরিমানার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য দলগুলো বর্তমানে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ ও অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কমিশনের এই নির্দেশনার ফলে মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক উত্তাপ ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কিছুটা স্তিমিত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

