২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাৎবরণকারী বীর শহীদদের মধ্যে যারা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন হয়েছিলেন, তাদের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ কার্যক্রমের চূড়ান্ত ফলাফল আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ রোববার বিকেলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই শহীদদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ফলাফল দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাদের অনেকেরই পরিচয় সেই উত্তাল সময়ে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে সরকারের নির্দেশে সিআইডি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ ডিএনএ প্রোফাইলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব অজ্ঞাতপরিচয় লাশের পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ নিবিড় তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পর এখন সেই শহীদদের পরিবারকে তাদের স্বজনদের পরিচয় বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক ও আবেগঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব বাংলাদেশ পুলিশ (আইজিপি) বাহরুল আলম এবং সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি শহীদ পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে এবং ইতিহাসের একটি দায়মুক্তির পথ সুগম করবে। রায়েরবাজারের এই কবরস্থানে সমাহিত সেই বীরদের চূড়ান্ত নাম-পরিচয় প্রকাশের মাধ্যমে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও পারিবারিকভাবে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পথ প্রশস্ত হবে।

