আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের জন্য দাখিলকৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ভোটারের তথ্যে অসংগতি ও স্বাক্ষর যাচাইয়ে গরমিল পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা আপাতত অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আইন অনুযায়ী আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন এই জনপ্রিয় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের মধ্যে অন্তত ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডা. তাসনিম জারা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও প্রায় ২০০টি অতিরিক্ত স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। কমিশন দৈবচয়ন বা ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতিতে ১০ জন ভোটারের তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পায় যে, আটজনের তথ্য সঠিক থাকলেও বাকি দুজনের তথ্য ভোটার তালিকার সাথে মিলছে না। মূলত এই দুই ব্যক্তি ঢাকা-৯ আসনের ভৌগোলিক সীমানার বাইরের ভোটার হওয়ায় বিধিমোতাবেক তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।
মনোনয়নপত্র বাতিলের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যে আবেদন করেছিলাম, সেটি আপাতত গৃহীত হয়নি। তবে আমরা আশাহত নই এবং ইতিমধ্যেই আপিল করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। যে দুজন ভোটারের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে, তারা খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন যে তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। ভোটারদের পক্ষে এটি সব সময় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় যে ঠিক কোন রাস্তার পর থেকে আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল সাধারণ ভোটারদের জন্য এলাকাভিত্তিক তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজতর করা।”
ডা. জারা আরও উল্লেখ করেন যে, ভুলবশত ওই দুই ব্যক্তি স্বাক্ষর দিলেও বাকিদের তথ্য সঠিক ছিল এবং তিনি পর্যাপ্ত সংখ্যক ভোটারের সমর্থন সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল বিভাগে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হলে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ডা. তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামীর সাথে এনসিপির রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমঝোতার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি দল ছাড়েন এবং ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। পেশায় চিকিৎসক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করার সুবাদে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা-৯ আসনের এই প্রার্থীর অবস্থান নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। তবে মনোনয়নপত্র বাতিলের এই ঘটনাটি তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাময়িক বাধা হয়ে দাঁড়ালেও তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের সময়সূচিতে উল্লেখ আছে।

